খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন, ১৪৩৩

২০ বছর পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে দেউলিয়া অসুস্থ জসিম

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
২০ বছর পর প্রবাস থেকে দেশে ফিরে দেউলিয়া অসুস্থ জসিম

ছবিতে প্রবাসী জসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক | কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)  প্রতিনিধি :

কাতারে ২০ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মান্দারপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জসিম। কিন্তু দেশে আসার পর অসুস্থ স্বামীকে ঢাকার বাসায় না রেখে স্ত্রী তাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন জসিম।

জানা গেছে, ব্যক্তি জীবনে জসিম ছিলেন সফল ও সুপ্রতিষ্ঠিত প্রবাসী। কাতারে থাকা অবস্থায় কষ্টের টাকায় তিনি ঢাকার নিকুঞ্জে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ তলা বাড়ি নির্মাণ করেন। তার ২ মেয়েই ইঞ্জিনিয়ার। তাদের বিয়েও হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে। বড় মেয়ে ও তার স্বামী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে চাকরি করেন। জসিমের স্ত্রী ও ছোট মেয়ে বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করেন।
কাতারে থাকাকালীন জসিম অসুস্থ হয়ে পড়লে এতদিন তার ছোট ভাই প্রবাসী সালাউদ্দিন তাকে দেখাশোনা করেছেন। কিন্তু অসুস্থ জসিমের দেশে ফিরে আসা আবশ্যক হয়ে পড়ায় এনজিও ব্র্যাকের সহায়তায় গত ৩-৪ দিন আগে তাকে দেশে পাঠানো হয়।

পরে অভিযোগ উঠেছে, জসিমের স্ত্রী রেখা ব্র্যাকের কাছ থেকে তাকে গ্রহণ করে ঢাকার নিকুঞ্জের বাসায় না নিয়ে সরাসরি কসবার মান্দারপুর গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। 

রেখা জানান, তিনি ১৮ বছর আগেই জসিমকে তালাক দিয়েছেন। বিদেশে থাকা অবস্থায় জসিম যত টাকা পাঠিয়েছেন সবই তার নামেই ছিল।

গ্রামবাসীরা জানান, মান্দারপুরে জসিমের বাবা-মা জীবিত নেই এবং ভাই-বোনও নেই। শুধু বাড়িটি রয়েছে। সেখানে গত ৩-৪ দিন ধরে অসুস্থ জসিম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গ্রামের একজন অসুস্থ মানুষের প্রয়োজনীয় সেবা ও চিকিৎসা সেখানে সম্ভব নয়।
জসিমের ছোট ভাই সালাউদ্দিন ও গ্রামবাসীর দাবি, এভাবে তাকে গ্রামে ফেলে রাখা মানে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সরকার বাড়ির সরদার ও মাতব্বরগণও বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, জসিমকে অবিলম্বে ঢাকায় এনে তার স্ত্রীর তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি। এ বিষয়ে কসবা থানা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন এলাকাবাসী।

যোগফল অনলাইন ডেস্ক

গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, মারধর ও টয়লেটে বন্দি: ১১ বছরের শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:২৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, মারধর ও টয়লেটে বন্দি: ১১ বছরের শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ

ছবিতে গৃহকর্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছে ১১ বছরের শিশুটি। শরীরজুড়ে ক্ষত, কোথাও শুকিয়ে আসা রক্তের দাগ। মাথায় একাধিক সেলাই, পিঠ ও দুই পায়েও গভীর ক্ষত। দীর্ঘদিনের নির্যাতনে দুর্বল হয়ে পড়া শিশুটি ঠিকমতো উঠে বসতেও পারছে না।

কখনো চোখ মেলে চারপাশে তাকাচ্ছে, আবার যন্ত্রণায় চোখ বন্ধ করে ফেলছে। শরীরের ব্যথা যেন তার কথা বলার শক্তিটুকুও কেড়ে নিয়েছে।

ঢাকার একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর বর্তমানে খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে শিশুটি। তার অভিযোগ, শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই মারধর করা হতো। ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না। দিনের বেশির ভাগ সময় তাকে টয়লেটে আটকে রাখা হতো। এক বছরের বেশি সময় ধরে এভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ শিশুটির।

শিশুটির বাড়ি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায়। তার বাবা দিনমজুর। সংসারে অভাবের কারণে প্রায় দেড় বছর আগে মেয়েকে গৃহকর্মীর কাজে ঢাকায় পাঠান তিনি। সে সময় শিশুটি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। শিশুটির মা মারা গেছেন।

শিশুটির বাবা জানান, মেয়েকে ঠিক কোথায় নেওয়া হচ্ছে বা কার বাসায় রাখা হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। প্রতিবেশী তোফাজ্জল হোসেনের মাধ্যমে মেয়েকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। তোফাজ্জল তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন, সেখানে মেয়েটি ভালো থাকবে এবং কাজের পাশাপাশি পড়াশোনার সুযোগ পাবে।

শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাকে ফেনী শহরের ট্রাংক রোড বড় মসজিদ-সংলগ্ন একটি বাসায় এক নারীর কাছে রাখা হয়। পরে ওই নারী তাকে ঢাকায় তাঁর বোনের বাসায় পাঠান। ঢাকার মিরপুরের কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়ার ওই বাসায় তাকে রাখা হয়েছিল।

শিশুটির অভিযোগ, ওই বাসায় যাওয়ার পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। সামান্য ভুল হলেই তাকে মারধর করা হতো। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। গৃহকর্ত্রী মোর্শেদা আক্তার ওরফে ছোটন এবং তাঁর মেয়ে রাফাতুল তাকে মারধর করত বলেও অভিযোগ করেছে শিশুটি।

এ ছাড়া দিনের বেশির ভাগ সময় তাকে টয়লেটে আটকে রাখা হতো এবং ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না। এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রায় প্রতিদিনই তাকে এভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সে। এই দীর্ঘ সময়ে বাবার সঙ্গে একবারও কথা বলতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ শিশুটির।

মেয়েকে ঢাকায় পাঠানোর পর নির্যাতনের বিষয়টি জানতেন না তার বাবা। কয়েক দিন আগে শিশুটির মাথা ও থুতনিতে গুরুতর আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে ঢাকা থেকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে গত শুক্রবার ফেনীতে ছুটে যান বাবা। এরপর শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে মেয়েকে নিয়ে খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পৌঁছান তিনি।

হাসপাতালে শয্যা না পাওয়ায় মেঝেতেই রেখে শিশুটির চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, শিশুটির শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন অভুক্ত থাকা ও চরম নির্যাতনের কারণে তার শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

এরই মধ্যে শিশুটিকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত দম্পতি মোর্শেদা আক্তার (৩৮) ও তাঁর স্বামী সাইফুদ্দিন রাসেলকে (৪৮) আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার কলাবাগানের গ্রিনরোড এলাকার একটি বাসায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মামলা করতে গতকাল রাতেই ঢাকায় গেছেন শিশুটির বাবা।

গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, মারধর ও টয়লেটে বন্দি: ১১ বছরের শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, মারধর ও টয়লেটে বন্দি: ১১ বছরের শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ

ছবিতে গৃহকর্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছে ১১ বছরের শিশুটি। শরীরজুড়ে ক্ষত, কোথাও শুকিয়ে আসা রক্তের দাগ। মাথায় একাধিক সেলাই, পিঠ ও দুই পায়েও গভীর ক্ষত। দীর্ঘদিনের নির্যাতনে দুর্বল হয়ে পড়া শিশুটি ঠিকমতো উঠে বসতেও পারছে না।

কখনো চোখ মেলে চারপাশে তাকাচ্ছে, আবার যন্ত্রণায় চোখ বন্ধ করে ফেলছে। শরীরের ব্যথা যেন তার কথা বলার শক্তিটুকুও কেড়ে নিয়েছে।

ঢাকার একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর বর্তমানে খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে শিশুটি। তার অভিযোগ, শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই মারধর করা হতো। ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না। দিনের বেশির ভাগ সময় তাকে টয়লেটে আটকে রাখা হতো। এক বছরের বেশি সময় ধরে এভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ শিশুটির।

শিশুটির বাড়ি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায়। তার বাবা দিনমজুর। সংসারে অভাবের কারণে প্রায় দেড় বছর আগে মেয়েকে গৃহকর্মীর কাজে ঢাকায় পাঠান তিনি। সে সময় শিশুটি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। শিশুটির মা মারা গেছেন।

শিশুটির বাবা জানান, মেয়েকে ঠিক কোথায় নেওয়া হচ্ছে বা কার বাসায় রাখা হবে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। প্রতিবেশী তোফাজ্জল হোসেনের মাধ্যমে মেয়েকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। তোফাজ্জল তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন, সেখানে মেয়েটি ভালো থাকবে এবং কাজের পাশাপাশি পড়াশোনার সুযোগ পাবে।

শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাকে ফেনী শহরের ট্রাংক রোড বড় মসজিদ-সংলগ্ন একটি বাসায় এক নারীর কাছে রাখা হয়। পরে ওই নারী তাকে ঢাকায় তাঁর বোনের বাসায় পাঠান। ঢাকার মিরপুরের কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়ার ওই বাসায় তাকে রাখা হয়েছিল।

শিশুটির অভিযোগ, ওই বাসায় যাওয়ার পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়। সামান্য ভুল হলেই তাকে মারধর করা হতো। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। গৃহকর্ত্রী মোর্শেদা আক্তার ওরফে ছোটন এবং তাঁর মেয়ে রাফাতুল তাকে মারধর করত বলেও অভিযোগ করেছে শিশুটি।

এ ছাড়া দিনের বেশির ভাগ সময় তাকে টয়লেটে আটকে রাখা হতো এবং ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না। এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রায় প্রতিদিনই তাকে এভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সে। এই দীর্ঘ সময়ে বাবার সঙ্গে একবারও কথা বলতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ শিশুটির।

মেয়েকে ঢাকায় পাঠানোর পর নির্যাতনের বিষয়টি জানতেন না তার বাবা। কয়েক দিন আগে শিশুটির মাথা ও থুতনিতে গুরুতর আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে ঢাকা থেকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে গত শুক্রবার ফেনীতে ছুটে যান বাবা। এরপর শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে মেয়েকে নিয়ে খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে পৌঁছান তিনি।

হাসপাতালে শয্যা না পাওয়ায় মেঝেতেই রেখে শিশুটির চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

খাগড়াছড়ির আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) রিপল বাপ্পী চাকমা বলেন, শিশুটির শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন অভুক্ত থাকা ও চরম নির্যাতনের কারণে তার শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

এরই মধ্যে শিশুটিকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত দম্পতি মোর্শেদা আক্তার (৩৮) ও তাঁর স্বামী সাইফুদ্দিন রাসেলকে (৪৮) আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার কলাবাগানের গ্রিনরোড এলাকার একটি বাসায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মামলা করতে গতকাল রাতেই ঢাকায় গেছেন শিশুটির বাবা।

জমি নিয়ে বিরোধে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জমি নিয়ে বিরোধে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

ছবি সংগৃহীত

নোয়াখালী প্রতিনিধি :

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের পরিবারের বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের পরিবারের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাইয়ের মেয়ের জামাই ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। হামলার সময় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের লাকুড়িয়ার কান্দি গ্রামে পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনার পর রাতে থানায় মামলা ও গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আসামিদের নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে, মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের লাকুড়িয়ার কান্দি গ্রামের পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, লাকুড়িয়ার কান্দি গ্রামের আনোয়ার উল্লার দুই ছেলে মজিব উল্যার ও প্রয়াত শরিফ উল্যার পরিবারের মধ্যে বাড়ির জমিজমা নিয়ে বিরোধে চলছে।
মঙ্গলবার বিকেলে বিরোধীয় জায়গায় ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের ছেলেমেয়েদের মধ্যে ঝগড়া ও মারামারি হয়। এ সময় মজিব উল্লার মেয়ে শারমিনের চোখে আঘাত করেন প্রয়াত শরিফ উল্লার ছেলেমেয়েরা। খবর পেয়ে বিকেল ৪টার দিকে পাশের গোপালপুর ইউনিয়েনের রসূরপুর গ্রাম থেকে শারমিনের স্বামী মো.ইস্রাফিল লোকজন নিয়ে চাচা শ্বশুর শরিফ উল্লার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালান। হামলার সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে হামলাকারীদের দুইজনের হাতে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। তাদের মধ্যে কয়েকজন মুখোশধারী ছিলেন। এ সময় অস্ত্রধারীরা শরিফ উল্লার পরিবারের নারী পুরুষ সদস্যদের দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায়। তারা শরিফ উল্লার বসতঘরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাংচুর চালান।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় শরিফ উল্যার ছোট ছেলে মোবারক উল্যাহ বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

তিনি বলেন, মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরে এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইস্রাফিল, তার বাবা তোফায়েল আহমেদ ও শ্বশুর মজিব উল্যাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধার ও মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।